Saturday, February 14, 2015

একলা মুসাফির

শীতের সকাল, হাথে কফির কাপ
বাইরে বৃষ্টি; হাল্কা, ঝিরঝির
খবর বলছে ভীষণ নিম্নচাপ
এস ডি বলছে – “ইহান কোন হ্যায় তেরা মুসাফির।।
সারাটা দিন অলস ভাবেই থাকা
বইতে মুখ, আরামকেদারায়
কিছু শব্দ খাতায় লিখে রাখা
যদি গেঁথে গেঁথে কবিতা করা যায়।।
দুপুর আসে, খিচুড়ি, অমলেট
তন্দ্রা আসে, হাল্কা চাদর মুড়ি
আনমনা হাথ, প্যান্টের পকেটে
একটা সিগারেট, দুটো সুখটান মারি।।
বিকেল, সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত্রিবেলা
দিন শেষ ভেবে মনে ভরে যায় গ্লানি
অন্ধকারের ভয়ে নাইটল্যাম্প জ্বালা
অন্ধকার তাই ভীষণ অভিমানি।।
রোদের তাপে জ্বলে ঘাস
এ তৃস্নাত আষাঢ় মাসে
প্লাবন আশার কথা বলেছিল কে যেন
হাথে গ্লাস নিয়ে চলা ছেলের
কৈশোর গেল চায়ের জলেই
রাতজাগা পেঁচা ঘর পায়নি এখনো
খড়কুটো মুখে পাঁচটা চড়াই
দিন-রাত্রি বাঁচার লড়াই
অটো চিমনীর তেল কালি মাখা আউটলেটে
তুমি আমি মাখা মেঘমল্লার
বৃষ্টি শানাল প্রেম জেল্লা
ভালোবাসা আজ ডিস্পোসেবেল এনটিটি

Thursday, February 12, 2015

ইয়ারিয়া
সেদিন ৩টে বন্ধু মিলে, আড্ডা, কফি, বার্তালাপ
সবার জমা দুঃখ যত, সবার জমা মনখারাপ
সেদিন ৩টে বন্ধু, তাদের পরস্পরের তাগিদ খুব
জ্যোৎস্না রাতের বাইপাসেতে স্মৃতির লেকে গভীর ডুব ।।
কাটল অফিস কেউবা আগে, কেউবা ভীষণ ঠিক সময়
হাতড়ে স্মৃতি, পাঁতরে স্মৃতি, রুকলো স্মৃতির অবক্ষয়
কেউবা হঠাৎ উঠল কেঁদে, কেউবা হঠাৎ চিত্রহার
কেউবা ভাবুক, পূর্ণিমাতে, সাক্ষ্য দিল ভেড়ির পার ।।
রাত বাড়তেই, ফোন বাড়ল, মনের বোঝার হাপিত্যেশ
৩টে বন্ধু, ৩টে হৃদয়, ৩টে শরীর নিরুদ্দেশ
দেখল শুধু বাইপাস, আর দেখল ফাঁকা ওয়াগন আর
উঠল ভেসে ৩টে শরীর, ৩টে হৃদয় নিঃসাড় ।। 

Tuesday, February 10, 2015

এমডব্লিউ১

চাকার ওপর সীট বানিয়ে পা ঝুলিয়ে বসে পরে
পাঁচ টাকাতে অরেঞ্জ লজেন্স প্যাকেট ছিঁড়ে মুখে ভরে
ট্যাগ ঝোলানো সবুজ রঙের, ব্যাগ খয়েরি, শালটা কালো
কোনাকুনি সীটটা আমার, (তাই) না চাইতেও চোখটা গেল
চুলটা স্ট্রেটেন্ড, সাইডে ক্লিপ, নেল-পালিশ হীন আঙ্গুল হাথে
সাদা সালওয়ার, সাদা ওড়না, কামিজে ছবি জলপ্রপাতের
গান শুনছে, বা রেডিও – কানের থেকে তারের সারি
টিকিট হয়নি, তাই বুঝছিনা কোন পাড়ায় কোন স্টপেজে বাড়ি
হথাত করে ভিড় হল বাস, কন্যে তুমি হারিয়ে গেলে
কাল থেকে রোজ এমডব্লিউ১, তোমায় খানিক দেখার ছলে 

Saturday, February 7, 2015








ছেলেটা

ছেলেটা ফুঁ দিল ফুসফুসে পাঁঠার
ছেলেটার বয়েস বই খাতা ঘাঁটার
তবু ইস্কুল যায়না
সকালে বাবার সাথে পাঁঠার দোকানে
রাতে ভাত এক থালা, নিজের মকানে
তার নেই কোন বায়না
ছেলেটা তাকিয়ে থাকে ফ্যালফ্যাল চোখে
যখন স্কুল ড্রেস পরে কেউ তার দিকে দেখে
তবু স্বাধীনতা পায়না

ছেলেটা বড় হয়ে কসাই হতে চায়না।।

ঝিনচ্যাক

তুলছ সেলফি, চলছ দুলকি, শরীরে উল্কি
গেটাপ খানা ঝিনচ্যাক
ইংলিশ হেবি, খুব টেকস্যাভি, বান্ধবিও
ঠিক একদম খাপে-খাপ
শনিবার হলে, বিদেশি হোটেলে, টনিক জলে
বম্বে জিন দু চার পেগ
রোববার কাকা, ব্রেকফাস্ট একা, পাউরুটি সেঁকা
বেকন, বেনেডিক্ট এগ  
সোমবার গুরু, বুক দুরুদুরু, সপ্তাহ শুরু
এদিক ওদিক মেল সেন্ড
কোড ঝাড় খেলে, কিবা এলো গেল, গুগল খুলে
ফের এসে যাবে উইকেন্ড 
আচ্ছে দিন আয়েঙ্গে

আমাদের রোজ রাস্তা ঘাটে ধর্ষণ হয়
ছিনিয়ে ন্যায় কেউ পয়সা, কেউ মূল্যবোধ
আমরা বাড়ি ফিরি হেরে, দুও দিতে দিতে
গ্লানি মাখা শরীর শাওারে ধুয়ে
ভদকা গ্লাসে খিস্তি মাখা ঠোঁট ছোঁয়াই
পরদিন আবার বেরই।।
আমাদের বাঁচা নিয়ে ঘৃণা নেই
রোববারের বেশি দামের মাছ, রেওাজি খাসি আছে
আমরাও হালাল হই, রোববারের বাজারে
কুছ পরোয়া নেহি তাতে
আচ্ছে দিন আয়েঙ্গে।।
আচ্ছে দিন আয়েঙ্গে।।

ভাল থেকো

তোর গা পুড়ে যায় জ্বরে, আজ একটু একটু করে
আমি জানলা দিয়ে আকাশটাকে দেখি
তুই ঠিক হয়ে যা জলদি, আমি ফিরেই গায়ে হলদি
আজ তুই আর আমি দুজনেই একাকি।।

স্বেতকনিকা ঘোরে, তোর সারা শরীর জুড়ে
রাতে প্লিজ ওষুধটা নিস খেয়ে
আমি মনে করাবো তোকে,  হয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুকে
একটা দিন হয়ে যা লক্ষ্মী মেয়ে।।

দেখিস কাল সকালে সূর্য, উঠবেই অনিবার্য
তুই সুস্থ শরীরে হেসে সুপ্রভাত
আমি তখনি শুতে যাব, যখন তোর সুস্থতা পাব
আমার চাঁদের সাথে প্রেয়ার সারা রাত।।
উইকএন্ড

চিঠিটা লেখা শুরু হল
কোথাও বৃষ্টি কোথাও সূর্য
প্রকিতিও এক নয় দু জায়গায়।।

শনিবারটা শেষের দিকে
কাল হলেই নতুন সপ্তাহ।
নতুন তো সবসময়েই ভাল।।

নতুন বছর, নতুন শিউলি,
নতুন পূজা, নতুন জামা।
জীবনটা নতুন করে সাজানো যায়না?

পুরনো চিন্তাগুলো ফেলে
মনটা নতুনের দিকে তাকায়।
যা হবে সেটাই জেন চাওয়া।।

সিনেমাটা শেষ হলে – হাততালি।
প্লেনটা উড়ে যায়, মেঘের দিকে।
সোমবার আবার অফিস।।
প্রথম

প্রথম পরা গায়ের উপর
নতুন মরশুমে
বুক চিতিয়ে মেখে নেওয়া
জমে থাকা ঘামে
শাওার খুলে জলের তলায়
ধুয়ে ফেলা ধুলো
প্রথম বৃষ্টি মনের ওপর
আমি আজ এলোমেলো।।
বৃষ্টিটা

এই বৃষ্টিটা তোকে ছোঁবেনা
শার্শিটা ভিজিয়ে দিয়ে যাবার সময় বলে যাবে
তুই অপেক্ষায়।।

এই বৃষ্টিতে আমি ভিজবো না।
আমার যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার
ভীষণ তাড়া।।

এই বৃষ্টিতে মাটি, জল পেল
ধুলো বালি থেকে অনেক দূরে আমি তাই
কাদা লাগলো না।।

এই বৃষ্টিটা মন ছুঁয়ে গেল।
তোর হাসি, তোর শব্দে, একে নেওয়া
কিছু মুহূর্ত।।

এই বৃষ্টিটা শেষে শেষ হল।
তোর বাস ধরা বা আমার বাড়ি ফেরার
অপেক্ষা না করেই।।

আকাশটা তবুও কালো করে।
চাওয়া পাওয়ার সীমান্তটা তাই আজ
ভীষণ আবছা।।

তোর এক রাশি হাসি মাখা দুপাটায়
তোকে খেতে দেখা
                                                                   খানিকটা আইসক্রিম।।


২৫

তোমার জন্ম শীতের ২৫সে, তার জন্ম বসন্তে
ঠাকুর তুমি, ঠাকুর সেও, পূজা বা উপাধিতে
তুমি শিখিয়েছ ভালবেশো সবে, তিনি শিখিয়েছেন কবিতা
খ্রিষ্টে রবিতে মিলেমিশে ২৫, সেলিব্রেসন সবইতা।।

তোমার জেরুসালেম, তার জোড়াসাঁকো, শান্তিনিতেকন
প্রভু প্রার্থনা তোমার চরনে, তার চরনে কলম
তোমার সান্তা সাদা দাড়ি বুড়ো, তিনিও শুভ্র কেশ
আজ ২৫সে, যীশু আর রবি মিলেমিশে একশেষ।।
বইমেলা

তাঁর বয়েস ৩৮ হল।
ময়দান থেকে বিতারিত হয়ে
বছর কয়েক তাঁর স্থান – বাইপাস।।

তাঁর গায়ে আগুন দিয়েও
মেরে ফেলা জায়নি তাকে।
মমারথে আজও তুলি-ক্যানভাস।।

হাউসের সস্তার পকরা – ইনফিউসান
শেষ দিনে আকন্ঠ রাম, গিটার, গান।
এখনও গিল্ড চকোলেট ছোড়ে?

কৃত্তিবাস, আনন্দ, দেশ
মৌসুমিতে অন্য রকম বই
লিটিল ম্যাগ কি আজও বিপ্লব করে?

আমরা যারা কখনও পাস, কখন টিকিট
তাদের শেষ দিনে কান্না পায়
যখন শেষ ঘণ্টাটা বাজে।।

তাই আমাদের তিনির উদ্বোধনে
একটা ঘণ্টাই যথেষ্ট
বাকি ৩৭ টা অকাজের।। 
যাক

তখনও কি তোমার পরেনি আমায় মনে
এতোঁ থালার পাশে বেড়ালের ডাক
ভাত ঘুম মাখা বিছানার আলিঙ্গনে।।

তখনও কি তুমি ব্যাস্ত নিজেকে নিয়ে
শ্যাম্পু চুল শপিং মলে ওড়ে
উদর পূর্তি, ফুড চেনে, কড়ি দিয়ে।।

তবে থাক তুমি নিজেই মতন করেই
(আমার) স্বপ্ন গুলোর বিসর্জন

রেল লাইনের বিছানো পাথরে।।