Saturday, February 7, 2015


তিন ঘণ্টার ট্রেন যাত্রার শেষে
খালি রুকস্যাক ভর্তি অভিজ্ঞায়
কিছুটা হারাল স্মৃতিশক্তির দোষে
কিছুটা ছন্দে কবিতা হল খাতায়

বন্ধ কামরা বন্ধু দিল কিছু
পরিচয়? সে তো গন্তব্যেই জানা
সতর্কতায় দেখে নেওয়া আগে পিছু
ট্রেন ছাড়ল শেয়ালদার সীমানা

কারো বাড়ি ফেরা মেয়ের বাড়ি থেকে
কেউ বা অফিস বর্ধমান সদর
ট্রেন চলল আপনি একে বেঁকে
ঝালমুড়িতে পুরতি উদর

নৈহাটিতে প্রথম স্টপেজ – স্টপ
হুরমুর লোক ‘জয় তারামা’ বুলি
লাল শালুতে ঠাণ্ডা আলুর চপ
আমি আরেকটা ভাঁড় চা গলায় ঢালি

লম্বা সীটটা তেঁতুল পাতার মতোই
কিছু লোক তাই ‘ঠেকিয়ে’ রাখল শুধু
সিগারেট, বিড়ি – চেকার দেখলে মানা
দুদিকে রুক্ষ লাল বাগিচা ধুধু

ট্রেন ছুটে চলে ফেলে রেখে ক্ষেত খামার
মায়ের ভক্তের হাতে গাঁজার কল্কে
লোকের টিফিনে বড্ড নজর আমার
সামনের দাদু প্লেট খালি করে পলকে

বর্ধমান আর গুশকরা পার হলে
গেটের দিকে বেরতে গিয়ে দেখি
সামনের কুপের দুরন্ত এক ছেলে
কম্পারমেন্টেই করছে বমি। ‘একি’

আঁতকে উঠেই চুপ করে মুখ আমার
‘বাচ্চা ছেলে কি আর করা যাবে’
চ্যাচানি শুনে তোড়জোড় করি নামার
আসছে স্টেশন এবারে নামতে হবে

গেটের সামনে যেতেই শেষ চমক
ইউরিয়া আর সালফারের বিষম গন্ধ
‘নামবেন নাকি’ – পেছনের লোকের ধমক
‘নামবো – কিন্তু গেটতো এখনও বন্ধ’

স্পীড কমে আসে, আমি লক খুলে ফেলি
দমকা হাওয়ার হলকা লাগে দেহে
ট্রেন থেকে নেমে গেটের দিকে চলি
এ যাত্রা তো অভিজ্ঞতারই মোহেই

No comments:

Post a Comment